গুচ্ছ কবিতা

স্বদেশের মুখ

পিঠের ওপর ঠেঁসে কলমের ডগা
চেঁচিয়ে উঠছে অভিনেতার ভাষণ—
তোমরা উন্নতিচিহ্ন অনুভব করো
লিখেও জানাও চিত্র বেঢপ ভঙ্গিতে
এমনটা হয় প্রায় বিবিধ উপায়ে
বাতাস আলাদা করা সম্ভব হয় না
হাওয়ার অন্তর থেকে। প্রতাপ-প্রবাহে
যেন মরুঝঞ্ঝাঝড়— খুব তেড়ে আসে!
বাস্তব হতেই চেষ্টা করছি। বস্তুত
অনেক খরচে তৈরি বাঁচার অভিধা,
শক্তির বিরুদ্ধ শক্তি নীরব বারুদে
যদিও জ্বালাল আলো— রক্ষাটি থাকে না
ফ্যাকাসে পাঠক যাচ্ছে, ভূখণ্ড কোথায়!
আমি আছি। দৃঢ়। দেখি স্বদেশের মুখ

সময়

সন্দেহ করতে থাকো। প্রিয় ভালোবাসা
উদার উদ্ভ্রান্ত তুমি— বিনীত ডাকাত
সচল মুদ্রার মতো তবু মূল্যবান
হাজার পকেটে যাও, হাত থেকে হাতে
নিজস্ব প্রতিক্রিয়াটি রাখো বিদ্যমান
অথচ, প্রকাশ্যে থাকো উৎকণ্ঠা-বিহীন
অজস্র সময় যায়। তুমি আসো, যাও
আচ্ছাদিত হও। অধিকাংশ ডুবে যাক
ডুবে যায় ইচ্ছেদের সব অবশেষ
শুক্লপক্ষ, কৃষ্ণপক্ষ ভেদাভেদহীন
জ্যোৎস্না-ফোয়ারা যখন উচ্ছলিত হয়—
তোমার সময় নেই (!) আকাশ দেখার

ভয়হীন ভবিষ্যৎ

স্বর্গ ও পৃথিবী ভালোবাসার জন্যই
চলো আনন্দকে খুঁজি দুঃখ ভুলে গিয়ে
একসাথে যত দীর্ঘ বেঁচে থাকা যায়
সুখের আলেখ্য হয়ে। মাঠ, ঘাসফড়িং,
প্রিয়জন, বন্ধু, ভাগ্য, নিয়তিকে নিয়ে
দূরত্বে তাড়িয়ে দিই শতপৃষ্ঠা ভয়
আনন্দ করো, ভালোবাসাকে বৃদ্ধি করো
প্রতিটি চুম্বনে মাখা ঐশ্বরিক সুখ
আমাদের যত আছে আর কোথা পাবে!
নিজেকে রক্ষা করো পূত প্রতিজ্ঞায়
বিশ্বাসের আশাবীজ নিজে বপন করো,
ঘৃণা হিংসা প্রলোভন প্রতিরোধ করো
ভালোবাসা মর্মরিত হৃদয়-দোলাশ
আগামীকালের পথে ভ্রান্তিভীতি নেই …

আলোর সচল ছায়া

লেখা শেষে লেখকের দায় ফুরাল…
তখন পাঠক মুখ্য। রুচিভেদ থাকে
ওরা খোঁজে, দেখে— এই বুঝি এসে গেল
গল্পজ্যোতি, পদ্যগন্ধ, নাটকের ভোর
আমরাও হতে পারি ছায়াহীন প্রাণী
দ্রুত-আসা অন্ধকার কিংবা উজ্জ্বলতা
বিনীত আস্থায় থেকে জানাতেই পারি--
শব্দের সকল গতি একমুখী নয়
দাঁড়াব আলোর পাশে। তাই, স্পষ্ট ক'রে
ভালোবাসা ব্যপ্ত করা যথেষ্ট সহজ,
যৌথ আয়োজনে। ঋদদ্ধসত্য কিনি
আলোর সচল ছায়া বেশ মূল্যবান!

কবিতার ছত্রছায়া

আধুনিক চিত্রকলা নিজেকে নিজেই
উন্মোচিত করে। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ চিত্রকে
সূক্ষ্ম শিল্পের ধারণা খণ্ডণ করলে
নিজস্ব অন্তর্নিহিত সত্য তৈরি হয়,
যা ধর্মীয় নৈতিক বা আদর্শিক নয়।
ময়ূর এবং শকুনকে স্বীকার করা
কে সুন্দর, কেউ কুৎসিত; অদরকারী
সৃষ্টির বলয়ে কাউকেই বাদ দেওয়া
উল্লেখ্য কোনো সম্ভাব্য অজুহাত নেই
কোনো বিনষ্টেও সৌন্দর্য সৃষ্টি হলে
সেখানেও তো ক্ষমার প্রয়োজন নেই
স্বাভাবিক স্বতন্ত্র সৃষ্টির সহজাত
শক্তি ছাড়া শুধু মাধুর্য হলে অবশ্যই
ঝরে যাবে কবিতার ছত্রছায়া থেকে …

পাপ বৃথা যায়

নৈশব্দ্য জড়িয়ে আছে পায়ে পায়ে স্তর
তোমাকে শুনতে চাই কথার ধ্রুপদী
শোনাতে আসোই যদি স্পষ্ট করে বলো
সরে এসো সেই বেশ— বেশুমার কাছে
চোখের গভীর চোখে স্বপ্নটা ডুবিয়ে
নিথর তাকানো শেষে কেড়ে নেওয়া দৃষ্টি
দু’চোখ থেকেও কাছে যখন পৌছাবো
তরঙ্গ লুকাতে পারে অন্তরঙ্গ হাসি
বাজে বাঁশি, ভেঙে যায় শীরের ঘুম
নগরের তেষ্টা জানি— মালিকানা চায়
সমাপ্তিবিহীন সব অনন্তের দেশ
জীবনে প্রবেশ করে আরেক জীবন
হাতের ভিতরে হাত— দশটি আঙ্গুল
জোড়ায় জোড়ায় গাঁথা। পাপ বৃথা যায়