শহরে এখন আগুনের দাম, পুড়ে যায় নুন-তেল,
মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে রোজ নিভে আসে সব খেল।
ইস্ত্রি করা জামার ভাজেতে দারিদ্র্য রাখে মুখ,
আয়না জানে—কার বুকে কত জমাট বেঁধেছে অসুখ।
বাজারে বিকোয় শ্রমের শরীর, ঘামের লোনা স্বাদ,
উঁচু ইমারত গিলে খায় রোজ নিচুতলার আহ্লাদ।
যারা মেপে খায় চালের দানা,
গুনে গুনে রাখে পা, তাদের ছায়ারাও কুণ্ঠিত বড়,
রোদে পুড়ে হয় ছাই।
‘সব ঠিক আছে’—এই মন্ত্রে কাটে মিথ্যে অভিনয়,
রাতের বালিশে কান পেতে দেখো, কী ভীষণ ওলটপালট!
শিরায় শিরায় বাড়ছে ঋণ, কমছে আয়ুর তেজ,
জীবনের মানে আটকে গেছে আজ শুধুই মাইনাস-এ।
ওরা বুলি আওড়ায়, নীতির বচন,
টিভিতে রঙিন হাসি, অথচ এখানে গুমরে মরে স্বপ্ন—গলায় পরেছে ফাঁসি।
গরিব হওয়াই নিয়ম এখানে?
নাকি এ শোষণের ছক?
বোবা মানুষের মিছিলে কেবল চিলেরা শানায় নখ।
চুপ করে থাকো, শব্দ কোরো না, ভদ্রলোকের পাড়া,
দেওয়াল লিখন বলছে চেঁচিয়ে—মানুষ সর্বহারা।
