শফিক মিলু-এর গুচ্ছ কবিতা

পরাবাস্তব প্রশ্নতা

নিরাকার এই অপ অপচয় –
রাত হয়ে এঁটে গেলে কবিতার ভোরে
কবিতার গীতিময় ক্ষতে –
জোছনার সাদাগীত ঢেলে দিয়ে জোছনার দূরে :

হয় যদি নিরাকার উচাটন পাখি –
আমি তবে খুশি হমু নাকি?
হরিণের হাত :
লিখে তাই করে ফেলি উপমা বেহাত?
হরিণীর চলা :
আমারে এড়ায়া গেলে আমিই নিষাদ?

অনুভূতি তাই এতো শতাব্দীতমো?
শতাব্দী-আল ধরে –
হরদম হতে থাকে শতাব্দীপাত ?

নাগরিক এপিটাফ

জানি ওরা নাগরিক মানুষেরা – কেউ কেউ মানুষের কম
যতবার জেনে গিয়ে যেকোনো প্রথম
যতবার গতীবান গতিবতী হলো
তাদেরই গতির পাশে – তার বেশি অনায়াসে
ওড়াশিল্প শিখে গেলো নগরের প্রজাপতিগুলো।

প্রেমিকের প্রতি

কখনো নদীর ধারে আসা হয় যদি
পাশাপাশি বসা হয় যদি
তবে তোর প্রেমিকারে এরকম রসিকতা দিস :
জলেরা রমণী আর জলেরা পুরুষ —
ছোটো ছোটো ঢেউগুলা জলেদের প্রেমাতুর শিস ।

ধারণার ডায়ালেক্টে

ধারণার কস্তুরীর গন্ধের মোজেজা এমনই সরস :
যেকোনো মাঘের পরে ফাল্গুন আসারও আগে
ধারণার ফাল্গুনেই ফুটে যায় ফুল সব গন্ধহীন নীরস।

সব দৃশ্যমান বুঝে ফেলে
দৃশ্যের উঁচুতা নিচুতা তুমি যতই রাখোনা খুলে
চেতনার দ্বন্দ্বপাশে চেতনা পাবেনা খুঁজে যথার্থ আরশ
এরকম ডায়ালেক্টে প্রতিবেশ প্রতিবার থাকিবে ঝোলে।