রুমি মল্লিক-এর কবিতা

ছন্দহীন জীবনের উন্মাদনা

একটা বৃত্তের ভেতরে শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ে
বেঁচে থাকার যে আনন্দ,উচ্ছ্বাস,সমস্তটুকু
একদিন এক নিমিষেই বদলে যায়,
প্রিয় ঘর, আসবাবপত্র, খাবার, সবকিছুই
এমন কি কথার ছলে খুনসুটি দিয়ে
যে মাতিয়ে রাখতো কোন এক বিকেলের
আলাপন।

বিকেলের কোলাহল হয়তো থেমে গেছে
তবুও না থাকা জুড়ে আছে শূন্যতা, হতাশা,
মান অভিমানের এক পুরনো অধ্যায়
আজ নিস্তব্ধতায় ছেয়ে গেছে ।

সময় গিলে নেয় সব আয়োজন
কেবল পাল্টায় আলাপনের চিত্র
চারিদিকে ছন্দহীন জীবনের উন্মাদনা
মুখ ও মুখোশের ভিড়ে আমাদের বেঁচে থাকা

রক্ত শিমুল তপ্ত পলাশ

সহজ অঙ্করবৃত্তে আঁকা  দেশমাতৃকার  পত্র পল্লবে   গুনগুনিয়ে আসে বসন্ত
বসন্তের হাওয়ায়  চক্ষুপল্লবে লাগে দোলা
ত্বকের চঞ্চল শিহরণে হৃদয় জাগে প্রেমকাব্যের উল্লাস।

মৃত্তিকার বুকে চুপটি করে চুম্বনের আলতো   পরশে   ঝরা পাতায় ছেয়ে গেছে তেপান্তর।
রক্ত শিমুল তপ্ত পলাশ ডেকে বলে আয় আয়
দেশ মাতার আঁচল ভিজে যায় রক্তস্রোতে
চারিদিকে শোকের মাতম তবুও
ছলছল আঁখি খোঁজে বর্ণীল  বাহার,
ঋতুরাজ বসন্ত তোমায় অভিবাদন ।

চলো হাতে হাত রেখে পরিচিত  এবং অপরিচিতের
ভিড়ে দেশমাতৃকার নির্ভীক সংগ্রামের নব-নব  সৈনিকের বুকে দেশমাতৃকার মানচিত্র থাকুক স্বমহিমায় ,
রক্ত শিমুল তপ্ত পলাশে ছেয়ে যাক দেশমাতার আঁচল

১২ মার্চ, ২০২৫
                              
                              

বাঁধ ভাঙা টেউ

অঝোর ধারায় পড়ছে বৃষ্টি
মনের ভিতর ও বইছে জলধারা,
চোখে ভাসে স্মৃতিময় দিনের ইতিকথা ,
আকাশে মেঘের গুঁড়ো গুঁড়ো দেখে যেন
মনে হয় ঝাঁক বেঁধে ধবলগাভী চরে বেড়ায় ।

নিদ্রাবিহীন গগনতলে কৃষাণী খোঁজে নিরাপদ আশ্রয়,
সন্ধ্যার লালচে আসমান জুড়ে কতো স্বপ্নের বীজ বুনে ,
বাঁধ ভাঙা টেউ তুফান তুলে সেই স্বপ্ন করে লণ্ডভণ্ড
তবুও নব প্রভাতের উদিত আলোয় এক টুকরো স্বপ্ন দেখে বেঁচে থাকার , 
যে চোখের  আলোয় মানচিত্র চিবিয়ে খাওয়ার
নেই কোন অভিলাষ ।
আছে কেবল টিকে থাকার অদম্য সাহস  ।

১৭ জুলাই, ২০২৫

ব্যথার পাহাড়

মেয়েটি হাসতো , কথা বলতো, উচ্ছ্বাসে
কখনো তার বুকের ভাঙ্গন দেখেনি
দেখেছি কেবল জ্যোৎস্নার আলোয়
ঝলমল বদনখানি ।

সময়ের এফোঁড় ও ফোঁড়ে দেখতে পেলাম
তার পাঁজর জুড়ে ছিল ব্যথার পাহাড়  ,
যে পাহাড় স্হির সারা পৃথিবীর কাছে
নতজানু হয়ে সেই কেবল চাইছে
তার আত্মার পবিত্র মৃত্যু  !

আমরা কি দিতে পারি?
নাকি শয়ে – শয়ে ব্যথার পাহাড় ডিঙ্গিয়ে
রাজকীয় লাম্পট্যে কেটে যাবে প্রহর ।
অবশেষে স্বাধীন পতাকা তলে আশ্রয় হবে শকুনের   

৯ জানুয়ারি, ২০২৫