সিরিজ কবিতা – ‘আমি’

আমি-১

আমি নিজেকে যখন গুছিয়ে
একটি ধাতুর বাক্সে
বন্ধ করে রাখি ;
তখনই চিৎকার শোনা যায়
ওপার থেকে
আমার শীর্ণ শরীর নিঃশব্দে
বেরিয়ে আসে
ঝড়ে পড়া পাকা কমলার মতো
গড়িয়ে পড়ে
গুছিয়ে থাকা আমি!

আমি-২

আমার অনুবাদে
আমি
যেখানে কোনো বিকৃতি ঘটেনা
আমিই আমার ঈশ্বর
যেখানে ছায়ার দৃশ্য
মৃত্যুর মতোন
উদাস।

আমি-৩

আমি নাইলনের তৈরী একটি ভাঁড়
প্লাস্টিকের চাঁদের ভিতর
রোজ ঢুকে পড়ি
পাসওয়ার্ড ভুলে যাই
স্মৃতিহীন আটকে থাকি
মৃত্যুর মন্ত্রে বেরিয়ে আসবো
সেই অপেক্ষায়।

আমি-৪

আমি এখন অনেক বড় হয়েছি
মাকরসা জালে আটকে গেছে
আমার অচল পা,
স্মৃতির ভেতর পোঁকা হাটে বোধহীন
ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে গেছে পান্ডুলিপি
ক্রমে দূরে সরে গেছি
আমি ও
তোমার অনুভব॥

আমি – ৫

আমি এক
অন্তবিহীন
ফাঁপা
জন্ম চিরন্তনের মধ্যে
বাস করি
আমার চারিদিকে
মসৃন শব্দ
নির্ভার শব্দ
যা অর্থযোগশূণ্য।

আমি-৬

যে শিশুটি
আমাকে স্বপ্নের ভেতর
আকঁড়ে ধরে
তার দীর্ঘশ্বাস ও গোঙানি
আমাকে নিশ্চিত ভবিষ্যতের
দিকে নিয়ে যায়,
যেখানে আমার ছায়াতেও
আমার ভয়।

আমি-৭

আজকে আমার চোখ ছিল
ঠিকানা হারা পথিকের
পথের মতো,
যেখানে দুপুরের আওয়াজ
ঝরে পড়ে
নির্বাক।
আমার ঠোঁটে ঝুলে ছিল সন্ধ্যা
চেতনায় ভোর
আর সন্ধ্যার ঘন্টিতে
ফিরে যাওয়ার তাড়া।

আমি – ৮

অথচ এখন আমি
মোমবাতির বাদামী আলো ধরে
নক্ষত্রলোকের দিকে যেতে চাই
এখনও আমি তোমার নৌকোর শরীরে
পা ঝুলিয়ে মেঘের বৈঠা নিয়ে
হেসে উঠতে চাই
শব্দের ভেতরে ॥

আমি – ৯

আমি আমার খুব
গভীরে নেমে দেখি
তার সদর দরজায়
দাঁড়িয়ে তুমি
পরিপূর্ণ জীবনের
প্রতিচ্ছবি।

আমি – ১১

আমি
আমার যৌনতা
পরিপূরক
একে অপর ছাড়া
নির্বাক
অস্তিত্বহীন
বস্তু।

আমি – ১২

আমি
আমার অপেক্ষারা
সময়কে গড়িয়ে নিয়ে যাই
নির্বাক হুইল চেয়ারের মতো
তবুও তুমি
দরজার কড়া নাড়োনি
শেষ বারের।

আমি -১৩

আমি নিঃসঙ্গ নই
কারণ আমি তোমায় ধারণ করে আছি
তোমার চোখ অনুপস্থিত নয়
তা রোজ আমায় স্বপ্ন দেখে॥

আমি – ১৪

আমি নই
অন্য কেউ কবিতা লেখে
আমি নই
তোমায় ভালোবাসে
অন্য কেউ
আমি
এক প্রস্থ ঘরের নিরুদ্বেগ মাত্র
যে কেবল বিকারগ্রস্ততার ঠোঁটে
চুমুক দিয়ে
মুদি দোকানীর মেয়ে হয়ে
বেঁচে আছে নিরালা মোড়ের বাড়ীতে
সৃষ্টি ও ভালোবাসার নীল ঘরে
নীল অসুখে কখনো ভুগিনি আমি
আমার ছায়াপথে কোনো শব্দ নেই
আছে কেবল
সংখ্যা।।