পেট্রোলিয়াম দিবস
ভালবাসা দিবস পালন করা হয়।
কিন্তু তা মনে করাবার এমন কিই বা প্রয়োজন ছিল?
আমরা আমজনতা তো এমনিতেই স্রেফ ভালবাসার উপরই টিকে আছি।
কখনও তো পালন করা হয়না পেট্রোলিয়াম দিবস।
তখন সিরিয়া- লিবিয়া নিয়ে চলত আলোচনা অনুষ্ঠান আর ভাষণ;
এবং ইরাক আদি সভ্যতা লুণ্ঠনের হুহু ধুলো
বয়ে বেড়াতে হত ফেব্রুয়ারীর সতেজ বাতাসকে।
আর মানুষের রক্ত দিয়ে সাজানো হত
ভ্যালেন্টাইনের কেক।
০৮ মার্চ ২০২২
কোথায় তুমি হে মূসা?
কোথায় তুমি হে মূসা?
আজ রোহিঙ্গা
চারিদিকে খোঁজে তোমাকে
পোড়া, রক্তাক্ত, ক্ষুধার্ত শরীর নিয়ে পালায়
আরাকান থেকে বাঙলায়
পেছনে দস্যূর গুলি, সামনে কাঁটাতার
শুধু একটি নাফ
কোলে তুলে নেয়
অবুঝ শিশু মেয়েটিকে।
হে নাফ তুমি
নীল নদের মত বাধ্য হওনি মূসার
তোমার বক্ষকে চিরতে পারেনি
রোহিঙ্গার আর্তনাদ!
তুমি শুধু বুকে নিয়েছো এক ছোট্ট
আরকানি বালিকাকে
আপন করে নিয়েছো তাকে পূরোটাই
জীবনের কাছে ফিরে যাওয়ার
তার যে পথও রাখো নাই!
হে নদী নাফ!
তুমি রোহিঙ্গাকে আজ
এক যাদুর লাঠি দাও
যে লাঠি দিয়ে হাঁকাবে বর্ণবিদ্যেশীকে
বৌদ্ধ নামের কুলাঙ্গার
আজ তার মূসার লাঠিকে
বড়ই দরকার।
০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭
তোরা সব ধান্দাবাজ
তোরা সব ধান্দাবাজ
কেউ দ্বীন, কেউ দুনিয়ার খোঁজ মত্ত
মসজিদের ভেতর
বা মন্ত্রণালয়ের করিডোরে
চলছে বিশেষ প্রার্থনা
ফন্দিফিকির।
শায়িত ওলির মাজারে গিয়ে
বকিস যত মন্ত্র
শ্মশানে গিয়েও রাতের গহীনে
শিখিস যত তন্ত
ভাব নিস তোরা যতই পারিস
আল্লাহ' র খাস বান্দা
সত্যি বলতে সব কিছুতেই
মুনাফা লুটার ধান্দা।
জীবের কষ্ট, মানুষের হাহাকার
তোরা দেখেও দেখিসনা, শুনেও শুনিসনা।
মনে করিস তোর তলহীন ঝুড়ি
এমনই দেবে ভরি
সর্বংসহ পিতা
যতই করিস পুকুর চুরি।
১১ মে ২০১৪
সুন্দরবনের জন্য গান
জাগো জাগো জাগো জাগো জাগো দেবী
জাগো জাগো জাগো জাগো জাগো দেবী
জাগো দেবী
জাগো সুভ্রা, জাগো চণ্ডী, জাগো দূর্গা, জাগো শ্যামলী
জাগো নতুন কবি, নতুন আশা, নতুন রবি
ধরণী মায়ের বীর সেনা।
বাঁচাও বাঁচাও হে বাঁচাও
বাঁচাও বাঁচাও হে বাঁচাও
ধরণীর বনানী বাঁচাও
রুখ রুখ শত্রু
জ্ঞানহীন মূর্খ!
সারি সারি এসো হে
ধরণী মায়ের বীর সেনা।
০৮ অক্টোবর ২০১৬
পুড়ছে ফুকুশিমা
পুড়ছে ফুকুশিমা
পুড়ছে দিনরাত
তার এগারোটা রিএক্টার নিয়ে
পৃথিবীর বৃহত্তম জলাশয়ের শীতল বক্ষের ওপর।
পুড়ছে নিউক্লিয়ার বর্জ্যের
বিরামহীন অক্ষান্ত পোড়ায়
লাল চক্ষু রাঙিয়ে
সূর্য বিধাতার দিকে।
শোন ওই হুশিয়ারি ডাক দেয় শুভ্র আলবাট্রস
ডাকে তার ছানা- খুকিকে কাতর কন্ঠে
" যাস নে ওই অসুর- রাক্ষসের ধারে মাগো
যাস নে, সোনা চাঁদ!"
ডাকতে ডাকতেই
হঠাত পাখনার ঝাপ্টানি হয় স্তব্ধ
ধপ করে পড়ে যায় ছোট্ট পাখিটি
পড়ে মমতা- ডাকের কোমল বলয়ের বাইরে রিএক্টারের ঘৃণ্য মুখখানির
বিকট হা এর ভেতরে।
নিমিষেই হয় ছাই
তার ছোট শরীর,
যা মুহুর্তেই উড়ে যায় গরম বাতাসে
নিউক্লিয়ার বর্জ্য হয়ে।
নিউক্লিয়ার দূষিত বাতাসে
মা পাখির করূন আর্তনাদ ভেসে ওঠে।
ছোট শিশুর শরীরের কোমল স্পর্শের জন্য
আরেক আগুনে পুড়ছে তার বেদনার্ত হৃদয়।
উড়ন্ত পাখিরা দলে দলে
ঘুর পাক খায় মহাসাগরের বক্ষের উপর
সংঘ- শোকে,
তার আর্ত-কাহিনী শোনার জন্য।
শোনো যুগে যুগে অসুরেরা
সামূদ্রীক এই দ্বিপে
এসেছে ধেয়ে।
ভূমিকম্প আর সুনামিরা
প্রকান্ড শক্তির তান্ডবে
কড়মড় করে ভেঙেছে
পাহাড়, ঢিবি, বন।
ভেঙেছে আর
ভাঙন শেষে
আবার চলে গেছে
তাদের দেশে।
শোনো কি বলে এলবাট্রস!
শোনো! অসুরেরও ধর্ম থাকে!
দানব হলেও সে প্রকৃতিরই সন্তান!
কিন্তু প্রকৃতির নিখুত গাথুনির বন্ধন ছিন্ন করে
যে কৃত্রিম দানব তোমরা সৃষ্টি করেছ,
এই সহস্র সর্প- কেশী ঘোর বিষাক্ত নীল মেডুসা,
যার নাম নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট
যার বিষ- প্রতিকৃয়ার অন্ত নেই কোথাও!
আজ তার কালো রক্ত যুগ - যুগ ধরে বিষিয়ে তুলছে
আমাদের আশ্রয়- ঠিকানাকে!
অনন্ত মহাবক্ষ প্রশান্ত মহাসাগর!
তোমরা কি এমনই, সৃষ্টির সেরা জীব,
হে মানব!
কান্ড- জ্ঞান হীন,
আধিক্যের লালসায়
প্রকৃতির সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে একান্তই অপরাগ! তোমাদের দায়ীত্বহীন কুকর্মের ফল থেকে
এখন আমাদের উদ্ধার করবে কোন
বীর পারসিয়াস!
কে বন্ধ করবে এই অনন্ত নষ্টের
বিষ- উৎস?
মরণাপন্ন মহাসুরের তেজসকৃয়া?
১৪ এপ্রিল ২০২১
বৃষ্টি তুমি কাঁদো কেন?
বৃষ্টি তুমি কাঁদো কেন
এইভাবে
শাপলার বুকের উপর?
গহীন রাত্রি জুড়ে শুনছে আজ
বিনীদ্র শহর
তোমার অঝরে কান্না।
বৃষ্টি তুমি দিয়ার নতুন কবরে
পড়েছ রাত জূড়ে
পড়েছ পিয়াল আর আরিফের
জল খাওয়া ফুলে যাওয়া দেহে।
কিশোরের কচি স্বপ্নের উপর
কেবলই আজ নৃশংসের আঘাত!
ফুল বদনের উপর
হায়েনাদের বলৎকার!!
এমনই এক আঘাত হেনেছিল
আরেক দিন
শাপলার গোলাপী হৃদয়ে
নীপিড়ক দালাল বাহিনী
তখন লাল ফোটায় রঞ্জিত হয়েছিল
শাপলার কিশোর বদন!
(কিশোর আন্দোলনের সময় ছাত্র হত্যা নিয়ে লেখা)
জেগে থেকো শাপলা
ফুটে থাক শাপলা নিরন্তর
বৃষ্টি স্নাত সকাল
আর মেঘল বিকেলে
জেগে থেকো সারা রাত
আসছে তেড়ে হিংস্র পোষা- কুকুরের দল
প্লাস্টিক হৃদপিন্ড আর
লৌহ- বারুদ শরির নিয়ে
তোমার কোমলমতি পাপড়ির উপর
বলাতকার করার জন্য।
জেগে থেকো শাপলা
সব সময়ে
সজাগ, সচেত, চির- প্রস্তুত
যুদ্ধে যাবে বলে।
০৩ আগস্ট ২০১৮
লাভ ইন দ্যা টাইম অফ করোনা
লাভ ইন দ্যা টাইম অফ করোনা।
আমি তোমার কাছে যাবো না
তুমি আমাকে ধরো না।
লাভ ইন দ্যা টাইম অফ করোনা
এত কাছাকাছি কেনো?
একটু দুরে দুরে সরো না!
লাভ ইন দ্যা টাইম অফ করোনা
তুমি সুন্দর মানি তবে,
আর কিছু দিন বেচে থাকতে চাই তাই
প্রেম- পত্র লেখ, দেখা করো না।
লাভ ইন দ্যা টাইম অফ করোনা
মনে মনে ভেবো আমায়
কারণ মনটাই বড়
শরীরটা বড় না।
লাভ ইন দ্যা টাইম অফ করোনা
দূর থেকে নমস্কার করো
মুখোচুম্বন করো না।
লাভ ইন দ্যা টাইম অফ করোনা
ছোট ব্যবসায়ীর ব্যবসা বন্ধ কর
বড় ব্যবসায়ীর করো না।
লাভ ইন দ্যা টাইম অফ করোনা
বিদেশী ভ্যাক্সিন বহু মূল্যে আমদানি কর
স্বদেশী ওষুধ তৈরী করো না।
লাভ ইন দ্যা টাইম অফ করোনা
কোনটা ব্যাবসা, আর কোনটা চিকিতসা
ওসব বাছাই টাছাই করো না।
লাভ ইন দ্যা টাইম অফ করোনা
বাইরে খাওয়া- দাওয়া বন্ধ হল বহু আগে
এখন ঘোরাঘুরিও করো না।
লাভ ইন দ্যা টাইম অফ করোনা
মানুষ তুমি ভয়ে ভয়ে থেকো,
অভয়ে জীবন- যাপন করো না।
লাভ ইন দ্যা টাইম অফ করোনা
মাস্ক-পিপিই পরা
দু- ঠ্যাংগের কিছু জীব ছাড়া
পথ-ঘাট আজ ফাকা
হুরে রেরে রেরে!!
এসো এই মুক্তিকে
ধুম সে
উদযাপন করি না!!!
মার্চ ২০২০
আমার পেটে ভাত নাই
আমার পেটে ভাত নাই
পকেটে ঘুষের টাকা নাই
সুইটজারল্যনাডে ব্যংকের একাউন্ট নাই
বিশ্ব ব্যংকের কোটি কোটি ডলারও
আমার ভাগ্যে জুটে নাই।
আমি অনলাইন বাটপারি জানি না
আমি চলি শরীরের শক্তিতে
শরীর চায় ভাত, জল, মাথার উপর ছাদ!
আমারে মানুষ মনে করিস না
আমি তো তোদের লাহান মানুষ না
আমি কীট!
আমারে দুই পায়ে কিলিবিলি করে
মাটির উপর হাটতে দে
ভাতের খোজে!!
২০ এপ্রিল ২০২১
এটা তরুণের দেশ
এটা তরুণের দেশ
এখানে তরুণেরা লড়ে মরে
নিজের জন্য নয়, মনিবের হুকুমে
তাজা রক্ত ঝরায় অঝরে।
এটা তরুণের দেশ
এখানে রক্তজবা ফোটে
ফোটে শিমুল, ফোটে পলাশ
লাল টকটকে।
আর ফুটে থাকে
নবীনের রক্ত মাখা লাশ
চওড়া ফটকে।
এটা তরুণের দেশ
এখানে তরুণেরা খেলা করে
যে খেলা শেষ হয় জখন বেলাগাম যান
নরম শরীরে মরণ- ধাক্কা মারে।
গতি কি, কার জন্য
জীবন অমূল্য
না কি আরেক পণ্য?
হুশ নাই, বস নাই
অনিয়িম চারিদিকে
নিয়ম শেখাবে কে সে?
মূর্খতার জয়জয়কার
আজ এই হতভাগা দেশে!
