বই: আমি বঙ্গোপসাগর থেকে বলছি

বই পরিচিতি

বই: আমি বঙ্গোপসাগর থেকে বলছি
লেখক: মনির ইউসুফ
প্রথম প্রকাশ: ৩১শে জুলাই ২০২৫
প্রকাশন: বাঙ্গালা গবেষণা
প্রচ্ছদ: নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
পৃষ্ঠা: ১০৪
মূল্য: ২৫০ টাকা

কবি মনির ইউসুফের ‘আমি বঙ্গোপসাগর থেকে বলছি’ বইটি বঙ্গোপসাগর নামের বিস্তৃত, প্রাচীন ও সংকটাপন্ন ভূ-অঞ্চলকে কেন্দ্র করে লেখা এই প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। লেখক এখানে নিজেকে কেবল একজন কবি বা চিন্তাবিদ হিসেবে সীমাবদ্ধ করে রাখেননি, তিনি বঙ্গোপসাগরের সন্তান ও দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে বঙ্গোপসাগরকে রক্ষার আন্দোলনে আহ্বান জানিয়েছেন।

লেখক স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন বঙ্গোপসাগরকে শুধু কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখলে চলবে না। তাকে একটি সমবায়ভিত্তিক, জনস্বার্থনির্ভর অঞ্চল হিসেবে কল্পনা করতেই হবে। এই ভাবনার পেছনে রয়েছে পরিবেশ, স্থানীয় মানুষ, জৈববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার প্রতি লেখকের গভীর অঙ্গীকার। লেখক বলেছেন ভূমিদস্যুদের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলকে দিতে হবে সামাজিক মালিকানা। দীর্ঘদিন ধরে এই পাহাড়-উপত্যকা-সাগরের উপর যে অমানবিক অত্যাচার হচ্ছে, লেখক তাঁর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন।

লেখকের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ এই উপসাগরের মানুষ নিজেদের শেকড়, নিজের সাগর, নিজের মাতৃভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা ভুলতে বসেছে। তাইতো বঙ্গোপসাগরকে নিয়ে খুব অল্পসংখ্যক মানুষকেই ভাবনা-চিন্তা করতে দেখা গেছে।

বইটিতে তিনি দেখিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর প্রাচীনকাল থেকেই বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ। তাইতো বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো এখানে নিজেদের পুঁজির বিকাশ ঘটাতে চায়। আজ কক্সবাজার বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেল ও রেস্টুরেন্ট দিয়ে ভরপুর।

বইয়ে মহেশখালী ও টেকনাফ নিয়ে করা দুটি কেস স্টাডিতে লেখক দেখিয়েছেন যে কীভাবে মেগাসিটি গড়ার স্বপ্ন, ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য ও পুঁজিবাদী উন্নয়ন প্রত্যাশা স্থানীয় প্রাণীর জগৎ, পাহাড়, ঝাউবন, কাঁকড়া–ঝিনুক–কাছিম—সবকিছুকে বিপন্ন করে তুলছে। এ যেন প্রকৃতির নীরব আত্মচিৎকার!

বঙ্গোপসাগরকে নিয়ে কবি মনির ইউসুফের কণ্ঠ যতটা রোমান্টিক, ঠিক ততটাই বিপ্লবী। সমাজব্যবস্থার মৌলিক বদল ও সামাজিক মালিকানা নিয়ে তাঁর ভাবনায় তিনি দৃঢ়।

কবি মনির ইউসুফ তাঁর লেখায় বঙ্গোপসাগরের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করাতে পাঠককে বাধ্য করেছেন। বইটি বাংলার সমুদ্রভূমি, তার ইতিহাস, তার বর্তমান বিপন্ন অবস্থা এবং তার সম্ভাব্য ভবিষ্যত সম্পর্কে আরও গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে।