হারিয়ে যাওয়া

দৈনন্দিন চাপে পিষ্ট আমি;
জীবন যেন এক অবিরাম ঘূর্ণিপাক।
প্রতিটি সকাল শুধু ঘড়ির কাঁটার দাসত্ব,
প্রতিটি রাত এক অবসাদ-মাখা ফাঁদ।
কোথাও মুক্তি নেই,
কোথাও যুক্তি নেই,
কোথাও নেই থামার অবকাশ।


আমি হাঁটি অসংখ্য মুখের ভিড়ে;
অথচ আমি একা, ভীষণ একা – বিশ্বাস হয়?
শব্দেরা চারপাশে নাচে,
অথচ আমি বোবা, ভাষাহীন – বিশ্বাস হয়?
কতবার ভেবেছি পালিয়ে যাব এই যান্ত্রিকতার লৌহশৃঙ্খল ছিঁড়ে;
কতবার ভেবেছি ছুঁয়ে দেখব অজানা কোনো দিগন্তের সোনালি প্রান্তর।


পালানোর স্থান হয়তো একটি বন, যেখানে রোদ ঝরে পড়ে শান্ত সবুজের বুকে;
অথবা একটি পাহাড়, যার চূড়ায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলব—“আমি পালিয়ে এসেছি!”


কিন্তু বাস্তবতা শেকল বেঁধে রাখে;
দায়িত্বের ভারে নতজানু আমি।
স্বপ্নেরা পুড়ে যায় নিয়তির নীল শিখায়;
চোখের সামনে আশাগুলো নিভে যায় নিভৃতে।


আমি পালিয়ে গেলে কেউ বোধহয় খুঁজবে না।
একদিন, দু’দিন, হয়তো এক সপ্তাহ কেউ কেউ বলবে – “ও কই গেল?”
তারপর সবকিছু ফিরে যাবে আগের ছন্দে।
আমার নামটাও ধীরে ধীরে বিবর্ণ হবে ভুলে যাওয়া পুরনো সংবাদপত্রের মতো।
একসময় কোনো এক কফিশপের টেবিলে কেউ হয়তো বলবে – “ওর মতো একজন ছিল”
কিন্তু কথার ভেতর থাকবে না শূন্যতার ভার;
কারণ আমি তো ছিলামই না কখনো।


তাই আজ, এই শেষ রাতে, আমি সত্যিই পালিয়ে যাব,
সমস্ত পথ, সমস্ত গন্তব্য, সমস্ত চিহ্ন মুছে দিয়ে বিলীন হব অসীম শূন্যতায়।
আমি হারিয়ে যাব সমুদ্রের গহীনে তলিয়ে যাওয়া এক নামহীন ঢেউ হয়ে।
আমি ফেলে যাব হিসেবের জঞ্জাল, না-পাওয়ার ভার, আকাঙ্ক্ষার মৃত শরীর…