মহব্বত হোসেন-এর কবিতাগুলি

ঘুম, ঘুম নাকি! নাকি মৃত্যু!
মৃতরা কি স্বপ্ন দেখে?
স্বপ্ন— নাকি অন্য কিছু!
কে! কে ওখানে?
এ কার আগমন—
পরিচিত ঘ্রাণ, কঙ্কণধ্বনি, মৃদু পায়ের আওয়াজ..
কে! তুমি! সত্যি নাকি!
নাকি পুরোটাই ভ্রম—
ঐ মৃত্যুর মত…

তুমি আমার প্রিয়তম কবিতা
হে প্রিয়তমা,
আমি তোমাকে পাঠ করতে চেয়েছি,
বুঝতে চেয়েছি কবিতার নিগূঢ় রহস্য —
অক্ষর থেকে শব্দে, উপমা থেকে বাক্যে,
ডুব দিতে চেয়েছি প্রতিটি স্তবকে,
পান করতে চেয়েছি কবিতার অমিয় সুধা।
তুমি আমার প্রিয়তম কবিতা,
হে প্রিয়তমা,
তোমাকে রচনা করেছেন স্বয়ং ইশ্বর।
আমি তোমাকে পাঠ করতে চেয়েছি—
তোমাকে ছেনে ছুয়ে,ভালোবেসে ভালোবাসায়,
বুঝতে চেয়েছি ঈশ্বরের ভাষা।
গল্পে, কবিতায়, গানে বন্দনা করতে চেয়েছি
ঈশ্বরের কারুকার্যের,মূলত ঈশ্বরের

আমার নানা মায়ের হাতে একটা ছেড়া কাথা দিয়ে তাতে ফুল তোলার জন্য সুই আর সুতা ধরিয়ে দিলেন।কোন কাপড় দিলেন না।মা তার পড়নের কাপর দিয়ে ছেড়া কাথাটা নতুন করে বুনলেন।তাতে রঙ বেরঙের ফুল তুললেন।তারপর মায়ের আর নতুন কাপড় কেনা হয়ে উঠেনি।সেই থেকে মা সেই কাথা মুড়ি দিয়ে চুপচাপ বসে থাকেন।

ফিরে এসো,
ফিরে এসো এই হেমন্তের সোনা-ঝরা রোদে,
এই নির্জন নিস্তব্ধ দুপুর
মেতে উঠুক আবার—
তোমার আগমনী গানে।
তোমার হাসির ফোয়ারায়
জেগে উঠুক বিষণ্ণ পৃথিবী।
গেয়ে উঠুক প্রণয়ের গান…

ঘুম আসছে না,
শুনেছি ভেড়া গুনলে ঘুম আসে।
ভেড়া গুনা শেষ হইলে আমি ঘোড়া গুনা শুরু করলাম,
তবু ঘুম আসছে না।
ঘোড়া বেশিক্ষণ গুনতে পারলাম না,
যেহেতু এরা এলোমেলো দৌড় জাপ পারে,
লাফালাফি করে সেই উঠতি বয়সের স্বপ্নগুলোর মতো।
পরে ঘোড়া গুনা বাদ দিয়ে বাঘ গুনা শুরু করলাম।
গুনবই যখন বাঘ গুনি,
কতক্ষণ বাঘ গুনার পরে খেয়াল করে দেখি আমিও বাঘের দলে,
কিন্তু বাঘগুলো দেখলাম তখন মানুষের মতো দেখাচ্ছে।
মানুষ আমার ভাল্লাগে না।
তাই আবার ভেড়া গুনা শুরু করলাম।

সময় শব্দটা শুনলেই আমার চোখের সামনে একটা নদী ভেসে উঠে।মায়াবতী এক নদী।সেই নদীর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে একটা সময় আমার নিজেকেও নদী মনে হয়।  আমিও তখন নদীর মত বয়ে চলি,চলতে চলতে অবশেষে সাগরে পতিত হই।উথাল-পাতাল ঢেউ শুরু হয়।আমি খেই হারিয়ে ফেলি।এরপর আবারও নিজের কাছে ফিরে আসি।পৃথিবীটাকে তখন কেমন শান্ত মনে হয়। মনে হয় আমিই সেই সময়।