এসেছে
আত্মাদের গান শোনো আজ
ডাকু সময় এসেছে এখন
হায়, কিভাবে ডুবাই আমি হৃদয় আমার
উদ্ভ্রান্ত, যেন চাকু এসে ঢুকে গেছে
পাঁজরের নরম খাঁচায়
এসো, কোলাহলের গান শুনতে চাও?
ঢুকে পড়ো রাতের নৈঃশব্দ্যে।
ডাকু সময় এসেছে এখন
স্বপ্নগুলো ঘরছাড়া, বেদম বেসামাল।
ছায়া
লাল ঠোঁট যেনো রক্তজমার মতোন
চোখের মনিতে ছায়া
দুই চোখ কেবল জ্বলছে নি:শব্দে।
এ কার ছায়া?
পাগলিনীর মতো তোমার এলোচুল
তার ভেতরে খোদাই করা
পদ্মপাতার মতো এক মুখ।
এলোচুলে ঘের দিয়ে রেখেছো কোন গাঙিনা জোছনা
মায়ার ঘর কি এখানেই বাধা?
ও নায়র তোমার চোখে দেখ ছায়া পড়েছে,
ক্লান্ত চোখ তবু বড়ো শান্ত, যেনো মোম।
একজোড়া স্যান্ডেল
আমার মেয়ে
চাঁদের আলো দিয়ে বানিয়েছে একজোড়া স্যান্ডেল
তারপর বললো, মা এই নাও তোমার ভ্যালেন্টাইন উপহার
আমি ভীষণ ব্যস্ত মানুষ, কেজো মানুষ
বিরক্ত মুখে সরিয়ে দিয়ে বললাম,
‘এখন যাও তো’।
শিশুটি চলে গেলো গোমড়ামুখে
একঝাঁক পরী এসে, স্যান্ডেল জোড়া পাহারা দিতে লাগল।
হাওয়ার বাগানে
চারুমুখী বিষণ্ণ বালিকা
হাতে তুমি কি পরেছো এই সব
মুক্তো আঁকা রোদের জলছাপ?
বুকের গভীর বন পার হয়ে
উপল নদীর পাড়ে সারসের কণ্ঠহারখানি
আনতে যাবে এখুনি? তবে যাও।
আমিও মনের ভুলে বিভোল পথিক
চারুমুখী বিষণ্ণ বালিকা
হাওয়ার বাগানে কাকে খোঁজো?
পথহারা গানের সংলাপ?
মনগুলো ভাসুক
বুকের ভেতর মেঘ জমেছে
সেই মেঘেতে বৃষ্টি হবে, হোক
প্রাণের ভেতর জল জমেছে
সেই জলেতে নৌকারা ভাসুক।
ডুবছে ভাসছে ডুবছে কিছু কলজেচেরা দিন
ঝিরঝিরিয়ে ডাকবে তবু অনন্ত সুদিন
আকাশ জুড়ে আলোর ভেলায় জ্বলবে যখন হেম
প্রাণের সাথে প্রাণ মিলিয়ে কাঁদবে যেনো প্রেম।
বুকের ভেতর মেঘ জমেছে
সেই মেঘেতে বৃষ্টি হবে, হোক
প্রাণের ভেতর জল জমেছে
সেই জলেতে মনগুলো ভাসুক।
চেয়েছিল
মেয়েটার নাম ছিল বুঝি পাখি
দুটি ছিল ডানা, তবে তা কেটে দেওয়া হয়েছিল
মেয়েটার চোখে ছিল সরলতা
যা নাকি বেচে দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে
ভারি সস্তার বাজারে
মেয়েটাকে পরানো হয়েছিল জড়োয়া গহনা
সোনা এবং মুক্তোর
যা সে দিয়ে দিয়েছিল এক ভিখিরিকে
শূন্য হাতে ফেরানো যায় না তাই,
মেয়েটার বুকের পাঁজরে বসানো ছিল
একটা ঈশ্বরের দেওয়া স্বর্ণপদ্ম
যা মেয়েটা জানতোই না।
বাবা-মা তার নাম রেখেছিল পাখি
মেয়েটা ডানা মেলে উড়তে চেয়েছিল।
