তোমারে দেখছিলাম

নদীর পারে বইসা আছিলাম,
চারোদিকে আন্ধার
পক্ষীরাজের ডানার শব্দ—
মনে হয়, বাড়ি ফিরলো সকলে।

আমার বাড়ি নদীতেই;
পারে আসার সুবাদে তোমারে দেখছিলাম।
আমি কিন্তু তোমারে আসলেই দেখছিলাম—
ডাগর চোখে বিদ্রোহের ব্যাকুলতা, অসহায়!
তুমি আমারে দেখোনাই।

তুমি মনে হয় দেখছিলা উড়াল দেওয়া পাখি,
শুনছিলা তাগো ডানার ভাষা।
আবার অনেক দিন তোমারে দেখিনাই—অনেক বছর।

আমার ঘর শুকায়া গেছে, বাড়ি হারাইয়া গেছে;
আমি ঘরহারা হইয়া আশ্রয় নিলাম গাছের ডালে—
মস্তবড় গাছের ডালে।

শীতের বাতাসে সেই যে এক পাতা জমিনে পড়লো,
তখন আমি তোমারে আবার দেখলাম।
তোমার পরনে ছিলো চাদর, হাতে ছিলো বাঁশি।
আমি তোমারে দেখছিলাম—
তুমি আমারে দেখোনাই।

সেই মস্ত বড় গাছও কাটা পড়লো।
এহন আমি তারা-গো লগে থাকি, আকাশে।
তোমারে এহন আমি সবখানে দেখি—
তুমি আমারে দেখোনা।

এই তারাও একদিন খইসা পড়বো;
আমি কোনখানে যাবো—
বলতে পারিনা।

আফসোস!
তোমারে আর দেখা হইবোনা।