ফাল্গুনী দাসের তিনটি কবিতা

উত্তম প্রেমিক

চেয়ে ভুল করে হারিয়েছি
মলিন মখমলে আনারকলির চাদর।
সন্ধ্যাবেলায় ফুলকুমারীর ফুলেরা—
টগবগে যুবকের বাহুতে গরম চায়ের ফেনা,
ছিটকে পড়ে সারাদিনের ব্যথায় কাতর।
চুড়ির ঘনত্বে টুংটাং শব্দ
মাতিয়ে রাখতে পারো,
এলোমেলো হাওয়ায়
তীব্র কোলাহলের মেঘ।
তবুও বাঁধো ঘর, শান বাঁধানো ঘাটে,
সরষে ফুলের হলদে পাখিরা
মিলে-মিশে একাকার।
কচি ডগার কলাপাতার ফাঁকে
ছিটকে পড়া বৃষ্টির জল,
চোখে চোখে সোহাগের গন্ধ
পায়নি অন্ধ রমণী।
যা কিছু আছে—সব নিয়ে
আমায় ফিরিয়ে দাও,
অবন্তিকার কেশ আর
টিকটিক করা ঘড়ি।
প্রেমিকই ছিলে ভালো,
বন্ধু তো হয় সকলেই।
বনভূমিতে ছিটিয়ে দেব
দু’জনার বীজের ঘাঁটি।
দিন আসবে, দিন পূরোবে—
আসবে যাবে কত,
দিকের পাল রয়ে যাবে
যুগের রাজার মতো।
শুনতে চাই দীঘল বরণ,
স্মরণ করো প্রিয়—
মিতালির পেটে ফোসকা পড়েছে।
গন্ধে ভরে আজান,
জাগো বাহো মৃত্যুর তথা।
সাঁঝে হারায় গির্জা-মন্দির,
জন্ম খোলা আজীবন।
সমতা বিধান করতে গেলেই বা কী,
না করলেই বা কী—
পদ্মাকর পদ্ম আছে আমার,
সেনবংশ করে নাশ।
দায়ভার হয়ে পেছনে পড়ে ঝিল,
শেকড়ে জন্মায়
নরম সৃষ্টি।


মুখরোচক

নগরীর শত কোলাহলের মাঝে
কিছু মোক্ষ গান বাজতে থাকে—
পথচারীর পারাপারে।
তবু ভালো আর মন্দের মাঝখানে
তুমি–আমি হাত ধরাধরি করে হাঁটি।

চায়ের তৃষ্ণার্ত বুকে
প্রেমিকার শব্দহীন ভালোবাসার নিঃশ্বাস,
থমকে থাকা কিছু মুহূর্ত।

ঘরে ফেরা—
শিখামণির হাতের রান্না,
গিটারের টুংটাং,
সিগারেটের ধোঁয়া উড়ে যায় বাতাসে।

ছাতিমের সুবাসভরা চোখের আলো,
খাটের পাশে রাখা টিউনিং করা ম্যান্ডোলিন—
আয়েশী নির্ভরতা।

কেমন করে সইবো আমি
প্রেম-আগুনের তাপ?
সুরের ঝংকার তোলা
ঝড়ের আভাস ফিরে আসে।

বন্ধুকে খুঁজতে খুঁজতেই
বারে বারে অন্ধ হয়ে গেছি।


শ্যাম

সমীরণে গভীর সূতবক্ষ,
মেলে ধরো প্রাতঃস্নানে—
জীবন্ত সমাধির ধারে
কিছু পদ্মমতীর আড়ষ্ট কথন।

জনাবার মৃত্যুগাথা হয়নি লিপিবদ্ধ—
করো যন্তুরাজ।
প্রণয়ের শেষে তাম্রতে
লেখ্যভাষায় ছন্দ করে
উদ্বেলিত মাত্রা।

থমথম করে নাচে
ময়ূরীর জলাধার,
অতলে ডুবে মরে
বেহিসাবি নিত্যকলা।

আয়ুষ্মান ভব, মোর প্রিয় পদ্ম—
যৌগান-ছেঁড়া পাতে
অন্তর্বাহে টলমল।
দেবো মরি—হায় হায়,
যাও তবু বিবিধ।

মরা গাঙে রকম কেশ,
দেহমণি অচির সিংহ।

লও অঞ্জলি—
সাধিকার চপলতার দৃপ্ত পূজারী।
গীত আর মীত সকলই আজ
বন্দি আমার প্রণীত কাব্যে।

মিহি মিহি প্রেমে
এ কী খেলা—তুমি সাধ্যহীন।
যৌনমত সাবাড় করো,
জানি, জানি—
মৃত্যুভয়ে গোগার্গে
নরহংস সাজো আমারই