১
যখন বাড়িতে ফিরি ফ্রেমে এটে রেখে আসি স্মৃতি সম্বলিত জর্জরিত মেঘ আর পাশাপাশি ক্রমশ নিভে যেতে বিকেলের ছায়া, নিশ্চয়ই পিছনে কেউ ডেকেছিল সাড়া দিতে ফিরে দেখি করুণ চোখে অপেক্ষাকাতর মরিচীকা আর মায়া।
২
অনির্ধারিত বৈঠকে মাঝে মাঝে মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে যায়, উঠে বসি, মুখোমুখি নিজের সাথে অর্থহীন বিতর্কে মাতি, কিছুক্ষণে যথেষ্ট মিথ্যাচারে নিজেকে আরও আরও হারাতে বেশ ভালোই লাগে। শত্রুকে ভালোবেসে অভিজ্ঞ হই বটে, সীমাহীন অপমানে একা।
৩
প্রেক্ষাপটে দাড়িয়ে আছে একা সেকেলে সেলুলয়েডে ক্ষতিগ্রস্ত বিকেলের আলো! যেহেতু ফুল ফুটিয়েছিল, ডালেবেসে যে পাখি গান শুনিয়েছিল, তাকে সেই অপরাধে তার মাথাকাটা হয়েছিল শিকারের ফাঁদে!
৪
যারা নিকটে গিয়েছিল, তারা কি বেচে ফিরেছে!
দীর্ঘশ্বাস মেপে দেখে বস্তুত ভয় পেয়ে বার বার ফিরে এসেছি। পিছন থেকে বন্ধুদের কেউ বলেছিল, ভয় পাওয়া ভালো কখনো কখনো অন্ধকার থেকে, চারপাশে যখন গাঢ় অন্ধকার।
আগুন প্রকৃত সত্য সূর্য মহান দেবতা, ভালোবেসে ছুয়ে দিও না, তাকে দূর থেকে প্রণাম করা যায়, এর বেশি নয়, সব দেবতা করি মনে লাগে ভয়, জাগো চৈতন্য, বলো জয় জয়!
৫
নীরব দর্শক অবগত মাঠে ফোটা ফুলের কত শত্রু রয়েছে এই রাক্ষস নগরে
যখন বাড়িতে ফিরি ফ্রেমে এটে রেখে আসি স্মৃতি সম্বলিত জর্জরিত মেঘ আর পাশাপাশি বিকেলের মায়া
৬
শিশিরসমগ্র থেকে সামান্য শীত আমার শৈশবের জলে নেমেছিল। গভীর ঘুমের তন্দ্রা ছেড়ে গেলে শামুক কুড়োতে বিলে আমরা যারা একসাথে ছিলাম।
কখনও কাকড়া আর কৈ বা কচ্ছপ অপেক্ষা করেছে জলে ঘাসের মতো ঋতুজীবি শৈশবের শীতরোদে পিঠ ঠেকিয়ে।
তারা কেউ কোথাও নেই বছর বিশেকের মতো- বড় হওয়ার গল্পের চরিত্রে তারা কেউ কম গুরুত্বের ছিল না।
সেই শ্যাওলা-শিশির-ঘাস কিংবা লতাপাতা দিয়ে কংক্রিটের মহানগর কীভাবে ভালবাসতে পারে?
কেউ কেউ অবিবেচক অন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়ে উঁচুতলা ঘরবাড়ি তৈরি করেছে কেবলই মিথ্যা আর একবুক অন্ধকার বিষন্ন অহঙ্কারে- অর্জিত অন্যায় ভালবাসার মতো বিশুদ্ধ প্রতারণা দিয়ে।
৭
শীত নামছে বাতাসে, শীত-কুয়াশা আকাশে।
শীত আসছে নেচে গেয়ে ধেয়ে বঙ্গোপসাগর তীরে।
ওরা আসছে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে, চেয়ার টেবিলে।
হায়, শীত আসছে শীত ভাসছে, শীত নাচছে গরিবের শরীরের সবটাজুড়ে।
হায় শীত, রঙিন শীত, রোদ্দুর উঠেছে ক্ষীণ আমার স্বকালে, আমার রাজনৈতিক ভূগোলে।
ঢাকায় শীত এসেছে চাকায় ঘুরে, উড়োজাহাজে
ঢাকায় শীতেরা সব জড়ো সারাবিশ্ব থেকে, বসেছে গোলটেবিলে
শীত নামছে নাকি মহানগরজুড়ে!
৮
দেখা হল ঢের, চাই কিছু অবসর- গল্প বলার। নিরাপদ বলে কিছু দেখি নাই কখনও। মাত্রাজ্ঞান নিয়ে শুধু আসা যাওয়া হল বার বার।
ভাব ও ভনিতার বাজার চিরকাল জনপ্রিয় সবরকম ও সবখানে দেখে গেলাম বিনা টিকিটে, সত্য ও সততা শুধু সমস্ত অন্যায়ে নির্যাতিত সংখ্যালঘুর মতো গুরুতর স্থান বিশেষে- কোনও ক্রমে কেউ কেউ সামান্য সত্য নিয়ে যদি পালিয়ে পালিয়ে বেঁচে যায় বিচিত্র কৌশলে- যদিবা কখনও কখনও তাও প্রকাশিত হয় একবার- সর্বনাশ অবধারিত। কেউ কোথাও নেই প্রকৃত বন্ধু বলে হাত ধরে তুলে ধরার মতো- অবসর চাই আমি এই রাক্ষসনগর থেকে- অজ্ঞাত বন্ধু বলে অবশিষ্ট কেউ যদি থাকো- বলে দাও, কোথাও কি আছে যাবার মতো?
৯
শুনেছি তারা ছিল শুভকাজের বাদ সেজেছে
আমাদের ভবিষ্যতে
জেনেছি অবশেষে তুমিই নাকি মধ্যিখানে ছুরি দিয়ে ছেদ টেনেছো, বাদ সেজেছে অপুষ্ট অহংকারের অভিজ্ঞতা দিয়ে
তোমার সাথে কিছুটা পথ একা একা হেটে দেখলাম তমাদের ভবিষ্যতে বরাবর অন্ধকার আর নিরেট অহংকার
এও সিদ্ধান্ত দর্শকদের ছিল, ষড়যন্ত্র তোমার প্রতি আশির্বাদের মর্মকথা
এবংবিধ পথের কাটা খুব গোপনে খুব যত্নে তুলে রাখি।
১০
ছায়া, রাতে পায়ের নিচেয় কাদা, বিদঘুটে অন্ধকার, পা পিছলে পড়ে যাবার ভয়
অন্ধকার, বিকট, নিকটে, চাই আশ্রয়, তাদের ভয় দিতে দূরের মাঠের অস্তিচর্মসার কৃষকের মিথ্যা হুঙ্কার, সন্দেহ হয়
ছায়াসংক্রান্ত সূত্র উঠে আসে সামগ্রিক ভ্রমে, ক্লান্তির ঘুমে
এবং ঘুমহীনতায়, দীর্ঘযন্ত্রণায় বিকৃত দৃশ্যরসে দুঃস্বপ্নে রূপকল্পে অনুদিত হতে থাকে জলচ্ছবিতে- কখনো ঘাটে পাড়ে ঘাসের ওপর বসি!
১১
এই পথ থেকে সরে এলে একদিন ইতিহাসে গুরুত্ব পাবে ছেড়ে আসা গণিতের ক্লাসের ট্যানজেন্ট সরনি থেকে কৌণিক মানগুলো, করুণ অবনতি কোণে অর্থবহ হয়