কবিতা
-
চরু হকের একগুচ্ছ কবিতা
এসেছে আত্মাদের গান শোনো আজডাকু সময় এসেছে এখনহায়, কিভাবে ডুবাই আমি হৃদয় আমারউদ্ভ্রান্ত, যেন চাকু এসে ঢুকে গেছেপাঁজরের নরম খাঁচায়এসো, কোলাহলের গান শুনতে চাও?ঢুকে পড়ো রাতের নৈঃশব্দ্যে।ডাকু সময় এসেছে এখনস্বপ্নগুলো ঘরছাড়া, বেদম বেসামাল। ছায়া লাল ঠোঁট যেনো রক্তজমার মতোনচোখের মনিতে ছায়াদুই চোখ কেবল জ্বলছে নি:শব্দে।এ কার ছায়া?পাগলিনীর মতো তোমার এলোচুলতার ভেতরে খোদাই করাপদ্মপাতার মতো এক…
-
বৃক্ষের অস্থিরতা
চায়ের দোকানে বসে চুপচাপগল্প শুনলেই বোঝা যাবেমানুষের আঞ্চলিকতা কি!ভাষা, অঙ্গভঙ্গি, জীবনধারণসংগ্রাম, সমাজবাস্তবতা।বৃক্ষকে কল্পনা করা যায় মানুষের আঙ্গিকেছোট্ট একটি চারার পৃথিবীতে আর্বিভাবএকটু একটু করে বেড়ে ওঠাডালপালাসহিত পাতার বৃদ্ধিঋতুর চাপে ঝরে পরা পাতানিঃস্ব করে দিয়ে যায় গাছের হৃদয়আবার পাতা গজানোর দিনেপরিপূর্ণতা আসে বৃক্ষেবাতাসে দোলে বৃক্ষের মনএকটি কাটা গাছের ক্ষোভফিরে আসে ঝড় কিংবা গরমের বেশেসকল প্রাণের বাঁচবার অধিকারমানুষ…
-
পোস্টমর্ডানিজম ঘৃণা করি
ডামি নির্বাচনের নাটকের আড়ালেজনগণের হাজার হাজার টাকা চুরিপুঁজি আর স্রোতে গা ভাসানোর উল্লাসেমানুষের হাহাকার ঢেকে যাওয়াপোস্ট মডার্ন এই যুগেবিচ্ছিন্নতার জয় অনিবার্যনিঃসঙ্গতা পরম সঙ্গীহাহাকার আর বেদনাই যেন সম্বলএকাকীত্ব সুখের আশ্রয়সব থেকেওনা থাকারআকাঙ্খা পরিপূর্ণবেঁচে থাকা মানেলাশগুলোকে ঘুমপাড়ানিমাসিপিসি শুনানোদৌড়াতে হবে দৌড়াতে হবেএ যেন চিরন্তন বাণীলোভ-লালসা আর স্বার্থপরতাই মূলমন্ত্রভোগবাদীতাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্যঅসৎদের সম্মানের আসনে আসীন আরবেইমানরা বিশ্বাস ও ভরসার…
-
শান্ত হও, নয়তো বধির
শান্ত হওনয়তো বধির পৃথিবীতে সুদিন ফিরবে নাকবিতার দেখা মিলবে নাপাতার ছটফট থামবে নাশকুনেরা ঘুরে বেড়ায় চারিপাশে শান্ত হওনয়তো বধির নৈতিকতা আজ বিবর্জিতদুনিয়ার দরদে সবাই বন্দীসত্যের কাছে ধরণা দাওঅন্তররে জিগাও মনের বাণীমিথ্যাকে ছুঁড়ে ফেলো শান্ত হওনয়তো বধির চোখের মনিতেতোমার প্রতিচ্ছবিচোখে চোখ রাখাকে তুমি সুন্দরী?হৃদয় হরণী? শান্ত হওনয়তো বধির অস্থির হয়ো নাছলনায় ডুবো নাপ্রেমের সাধ নাওটানে ছুটে…
-
মবের মুল্লুক বাংলাদেশ
মগের মুল্লুক অর্থ অরাজক দেশওরকম বাগ্ধারা-আশঙ্কা করি হয়ত যুক্ত করে নেবেঅক্সফোর্ডের ডিকশনারি-মবের মুল্লুক অর্থ বাংলাদেশ জোহুকুম জাঁহাপনা ন্যায়পালগণঝুলন্ত মূলা সংস্কার নির্বাচনী ধাঁধাঁবেমাথার যত্তসব দাদাভ্রষ্টদের চারুবাক কথামালা তাত্ত্বিকের তত্ত্ব ভোটসীলে জনতার দেখা যাবে কালো নাকি সাদা খুনি জিয়া-স্বৈরাচারী শেখ মুজিবদুটো প্রতিপাদ্যই এক্সেস জাতীয় ঐক্যের বাধা; ২২ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:
-
স্বাধীনতা অন্তর্বর্তী নয়
মায়ের মুখের মতো স্বস্তি স্বাধীনতা স্বাধীনতা সমুদ্রের ঢেউ রক্তপঙ্গা একাত্তর ফিলিস্তিনহাওয়া-পাওয়া পালের নায়ের তরতর গতিস্বাধীনতা মনের গহীনে ওকে মনে করা খুবপুকুরে মাছরাঙার ইচ্ছে মতো টুপ করে ডুব খেলার মাঠের বৃষ্টি কিংবা ঠাঠা রৌদ্র স্বাধীনতাগাজায় নারী শিশুর ক্ষুধা কষ্ট মৃত্যু….রাজপথে পুলিশের বেদম প্রহারেপ্রাথমিক শিক্ষক শহিদ-এ কেমন স্বাধীনতা? এ আবার কেমন ছিরি স্বাধীনতার মুক্তিযোদ্ধা সচিবের জুতার মালার পুরস্কারশাসকের ইতিহাস জনতার…
-
কবি মনজুরুল ইসলামের গুচ্ছ কবিতা
নয়নের জলে এখনো বড়াই করি অনন্য তোমাকে নিয়ে প্রেমাকুল স্বরে!মমতা সোহাগ ভরা প্রাণবন্ত মুখখানি এখনো মাতায়!বিষাদিত বুক আজ হেরে গেছে নিশিনামা বেদনার ঝড়ে!নশ্বর জীবন পথে দুর্ভাগ্যের গ্যাঁড়াকলে কত অসহায়! ব্যস্ততার যাত্রাপথে চিরহারা মুখ”ছবি কত কথা বলে!বিচিত্র শব্দের স্বর রাঙায় বিধুর বুক ওথ্লে শুধু শোক!জীবনের গল্পগুলো ভেসে ওঠে একে একে মুগ্ধতার ছলে!অবিচল স্বপ্নমত্তে মাতায় বুকের কন্দে…
-
আলী প্রয়াস-এর একগুচ্ছ কবিতা
ছায়ার প্রতিলিপি জলের স্রোতে ভাসছে ব্যধি ও ব্যঞ্জনাএকদিন হয়তো হারিয়ে যাবতোমার ঠিকানা-কাটা সিগন্যালের নীচেএবং নিজেকে খুঁজে পাবোবিছিয়ে রাখা পাহাড়ি ঝরনার তলে—মাটির মতন গভীর আর একাকী। প্রেমের উৎস সন্ধানেআমি ভেসে যাই অসামান্য নদীশরীরে—খুঁজতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ি,তোমার ভেসে ওঠা মুখের দিকে তাকিয়েআরও একটিবার,বিস্ময়ের এক টুকরো সৌন্দর্যঅথবা এই মুহূর্তের মতোস্রোতের ওপরে তোমার ছায়ার প্রতিলিপি। এ কেবল আকাশের…
-
দশখানা বিপ্লবী কবিতা
ভালবাসা দিবস পালন করা হয়। কিন্তু তা মনে করাবার এমন কিই বা প্রয়োজন ছিল? আমরা আমজনতা তো এমনিতেই স্রেফ ভালবাসার উপরই টিকে আছি। কখনও তো পালন করা হয়না পেট্রোলিয়াম দিবস। তখন সিরিয়া- লিবিয়া নিয়ে চলত আলোচনা অনুষ্ঠান আর ভাষণ; এবং ইরাক আদি সভ্যতা লুণ্ঠনের হুহু ধুলো বয়ে বেড়াতে হত ফেব্রুয়ারীর সতেজ বাতাসকে। আর মানুষের রক্ত…
-
মো. নাছির উদ্দীনের কবিতা
আমাকে পাবে তুমি কবিতার ছন্দে সোনাঝরা ধানক্ষেত ফুলেদের গন্ধে। আমাকে পাবে তুমি বাধভাঙ্গা খেয়ালে প্রতিবাদ প্রতিরোধ চিকামারা দেয়ালে। আমাকে পাবে তুমি হিমহিম বাতাসে পুর্ণিমা ঝলমল স্বপ্নিল আকাশে।
-
নীল অক্ষর
কথাগুলো শব্দগুলো অক্ষরগুলো সময় পেলে দীর্ঘশ্বাসে অনুবাদ করি। পিপাসা তীব্র হলে গ্লাসপূর্ণ অন্ধকার পান করি রাতে। ১ অন্তত এক হাজার রাত্রি আমি না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি এই মহানগরে। তাতে কী হয়েছে? কেউ কেউ তার কিছু মনে রেখেছে। আমি মরতে পারি—এটাই অবাক করা ঘটনা ছিল। যারা সে দুর্ঘটনার দায় নিতে পারে, তাদের কেউ কেউ বস্তুত পেশায় কলমশ্রমিক।…
-
মহব্বত হোসেন-এর কবিতাগুলি
১ ঘুম, ঘুম নাকি! নাকি মৃত্যু!মৃতরা কি স্বপ্ন দেখে?স্বপ্ন— নাকি অন্য কিছু! কে! কে ওখানে?এ কার আগমন—পরিচিত ঘ্রাণ, কঙ্কণধ্বনি, মৃদু পায়ের আওয়াজ.. কে! তুমি! সত্যি নাকি!নাকি পুরোটাই ভ্রম—ঐ মৃত্যুর মত… ২ তুমি আমার প্রিয়তম কবিতাহে প্রিয়তমা,আমি তোমাকে পাঠ করতে চেয়েছি,বুঝতে চেয়েছি কবিতার নিগূঢ় রহস্য —অক্ষর থেকে শব্দে, উপমা থেকে বাক্যে,ডুব দিতে চেয়েছি প্রতিটি স্তবকে,পান করতে…
-
বনানী বাবলি’র পাঁচটি কবিতা
জয়িতা ও সূর্য সূর্য : মনকে বলি একটু রোকো ছুটছো কেন অবিরত ?জয়িতা: সোনার হরিণ পাবো নাতো যতই কাঁদি অবিরত !সূর্য : মন যে আমার বিষাদগ্রস্ত ছুটছে দিকে দিগন্তরে !সূর্য : মন কি কারো বসে থাকে, কেউ জানে সে কোথায় ঘুরে !সূর্য : মেঘলা আকাশ মনকে বলে করছি আমি তোমায় সিক্ত,জয়িতা : প্রানঢালা মোর আশীষ…
-
হাত বাড়িয়ে
টেলিস্কোপিক রাইফেলের নিখুঁত তাক তোমার দুটো চোখ— লক্ষ্য আমি। পেশাদারী খুনি তুমি, হৃদয়ের নির্ভুল আঘাত হেনেছো, অদৃশ্য যাদুর হাত তোমার প্রেমই তোমার প্রতিভা সুপ্রিয়া তুমি যে ক্ষত আমার হৃদয়ে করেছ সেই ক্ষতকে সেলাই করতে পারবে..? গোপীনাথ তোমার এখন দুর্বল লাগার কথা, আমার কাঁধে ভর দেবে—! এই নাও হাত বাড়িয়ে দিলাম….
-
নীলকান্ত কপালে
নীল পৃথিবীর অন্তরালে, গভীর আকাশের নীলকান্ত কপালে ঝুলে থাকা পূর্ণ চাঁদে তুমি আলোকরেখা হয়ে ছুঁয়ে যাও আমাকে। আমি জলের কোমলতা হয়ে চুমোভেজা কণ্ঠের আদলে জড়িয়ে ধরি তোমাকে— মধুময় আভায় তুমি আমাকে ডাকছো, অমোঘ আকর্ষণে টেনে নিচ্ছো আরও গভীর প্রেমের মণিকুটিরে। তোমার রুপালি দীপ্তিতে আমার শরীরে দুধসাদা অগ্নিশিখা দপদপ করে জ্বলে ওঠে। আমি ডানা মেলে তোমার…
-
আমিরুল বাসার-এর চারটি কবিতা
পাখি ডাকা ভোর শিউলির ঘোর সবুজের ঘাস, শিশিরের জল পায়ে পায়ে চল থাকে বারোমাস। নদী বয়ে যায় দুকূলের বায় বাঁশিতে সুর ফসলের মাঠ খেয়া বাধা ঘাট কে যায় সুদূর। সুমধুর গাঁয় কে বাঁশি বাজায় শোনে কত লোক নিঝুম দুপুর কোকিলের সুর রাত জাগা চোখ।
-
রুমি মল্লিক-এর কবিতা
একটা বৃত্তের ভেতরে শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকার যে আনন্দ,উচ্ছ্বাস,সমস্তটুকু একদিন এক নিমিষেই বদলে যায়, প্রিয় ঘর, আসবাবপত্র, খাবার, সবকিছুই এমন কি কথার ছলে খুনসুটি দিয়ে যে মাতিয়ে রাখতো কোন এক বিকেলের আলাপন।
-
প্রেম ও দ্রোহের উপাখ্যান
নিজেকে পোড়ানোর দায় এড়াতে পারিনি বলেই— পুড়েছি নিষ্ঠুরভাবে সূর্যের প্রখর রৌদ্রের মতন পুড়িয়েছি দীপ্তিহীন খালি গা উৎকৃষ্ট ঘ্রাণে বিনিদ্র কালো রাতকে পুড়িয়েছি আমি ক্ষীণকায় দেহের শেষ সম্বল পুড়িয়েছি নিঃস্বার্থভাবে দ্রোহের তাড়নায় ঘুমকে পাঠিয়েছিলাম নির্বাসনে হঠাৎ জেগে দেখি! ঘুমিয়েছিলাম বহুদিন হলো
-
দিওয়ান এ মানিক
তুমি দেখিও না দাপট ক্ষমতার দম্ভ রক্তচক্ষু এই অধমেরে তুড়ির ইশারায় কতো খড়কুটো ওড়ে গেছে লাবনির চরে।
-
শিশির আজম-এর গুচ্ছকবিতা
আমি কুমোরের মেয়ে। চড়ুই পাখির ঠোঁটে ঘুমিয়ে ছিলাম, এক দানা ঘুম পড়েছে রাস্তায়, শকুন্তলা দেখেননি। আমাকে নতুন করে গড়তে চেয়ো না — মা আমাকে নিজ হাতে তৈরি করেছেন, আদি সৌন্দর্যের পোঁচ দিয়েছেন বাবা। কুমোরের মেয়ে, পানাম নগরে মৃদঙ্গ ডমরু…
